স্টক মার্কেটে ইনভেস্ট করতে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভালো স্টক চেনা। অনেকেই শুধু নাম দেখে বা অন্যের কথায় স্টক কিনে ফেলে, পরে লস করে আফসোস করেন। কিন্তু যদি আপনি Fundamental Analysis আর Technical Analysis সামান্য একটু শিখে নেন, তাহলে খুব সহজে বুঝে যাবেন – কোন স্টকে ইনভেস্ট করলে ভবিষ্যতে ভালো রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে।
এই ব্লগে আমরা সহজ ভাষায় দেখে নেব ভালো স্টক চিনার উপায়, EPS ও PE Ratio কি, এবং দুই ধরনের এনালাইসিস কিভাবে সাহায্য করে।
Fundamental Analysis – কোম্পানির ভিতরের শক্তি যাচাই
ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিসে আমরা দেখি কোম্পানির আসল ভ্যালু কেমন, তার আয়, লাভ, ঋণ, ম্যানেজমেন্ট—সবকিছু।
✔️ ১. EPS (Earnings Per Share) কি?
EPS হচ্ছে কোম্পানি প্রতিটি শেয়ারের পিছনে কত টাকা আয় করছে।
ফরমুলা:
EPS = কোম্পানির মোট লাভ ÷ মোট শেয়ার সংখ্যা
➡️ EPS যত বেশি, কোম্পানি তত বেশি আয় করছে।
➡️ একই সেক্টরের অন্য কোম্পানির তুলনায় EPS বেশি হলে কোম্পানি ভালো করছে ধরে নেওয়া যায়।
উদাহরণ:
Company A বছরে লাভ করলো ₹10 crore এবং শেয়ার সংখ্যা 1 crore।
EPS = 10/1 = ₹10
মানে, প্রতিটি শেয়ারের পিছনে কোম্পানি ₹10 আয় করছে।

✔️ ২. PE Ratio (Price to Earnings Ratio) কি?
PE Ratio দেখায় বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির প্রতিটি ১ টাকার লাভের জন্য কত টাকা দিচ্ছেন।
ফরমুলা:
PE Ratio = শেয়ারের দাম ÷ EPS
➡️ PE Ratio কম হলে স্টক সস্তা ধরে নেওয়া যায়।
➡️ খুব বেশি PE মানে স্টক ওভারভ্যালুয়েড হতে পারে।
➡️ কিন্তু সবসময় সেক্টর–ওয়াইজ তুলনা করা জরুরি।
উদাহরণ:
শেয়ারের দাম = ₹200
EPS = ₹10
PE = 200 ÷ 10 = 20
মানে, কোম্পানির ১ টাকার লাভ কিনতে লোকজন ২০ টাকা দিচ্ছে।
✔️ ৩. Debt to Equity (D/E Ratio) – কোম্পানির ঋণের চাপ
এই রেশিও দেখায় কোম্পানির ঋণের পরিমাণ শেয়ারহোল্ডারদের নিজের ক্যাপিটাল এর তুলনায় কত।
ফরমুলা:
👉 Debt to Equity = মোট ঋণ ÷ শেয়ারহোল্ডারদের Equity
➡️ D/E Ratio কম হলে কোম্পানি নিরাপদ।
➡️ খুব বেশি D/E মানে কোম্পানির ওপর ঋণের চাপ বেশি।
উদাহরণ:
Company B-এর Debt = ₹200 crore
Equity = ₹100 crore
D/E = 200 ÷ 100 = 2
মানে কোম্পানির প্রতি ১ টাকা Equity–র বিরুদ্ধে ২ টাকা ঋণ আছে।
এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
👉 ভালো কোম্পানির D/E সাধারণত ১-এর নিচে থাকে।
✔️ ৪. Book Value – কোম্পানির প্রকৃত সম্পদের মূল্য
Book Value দেখায় কোম্পানির মোট শেয়ার প্রতি সম্পদের মূল্য।
ফরমুলা:
👉 Book Value Per Share = (Total Assets – Total Liabilities) ÷ Total Shares
➡️ বাজার দাম Book Value-র কাছাকাছি হলে স্টক সস্তা বলা হয়
➡️ বাজার দাম Book Value-র ২-৩ গুণ হলে ওভারভ্যালুয়েড হতে পারে
উদাহরণ:
Company C
Total Assets = ₹500 crore
Total Liabilities = ₹200 crore
Total Shares = 3 crore
Book Value = (500 – 200) ÷ 3 = ₹100 প্রতি শেয়ার
যদি বাজারে শেয়ারের দাম হয় ₹120,
তাহলে এটা ন্যায্য দামে আছে।
যদি বাজার দাম হয় ₹400,
তাহলে এটি অনেক ওভারভ্যালুয়েড।
✔️ ৫. Shareholding Pattern – কারা শেয়ার ধরে রেখেছে?
গুড স্টক চেনার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো কে কত শেয়ার ধরে রেখেছে।
সাধারণত কোম্পানির শেয়ারহোল্ডিং ৪টি অংশে ভাগ হয়:
1) Promoter Holding
➡️ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা বা মালিকের অংশ
➡️ Promoter Holding বেশি হলে ভালো (৫০% বা তার বেশি)
➡️ কমতে থাকলে সতর্ক থাকা উচিত
2) FII (Foreign Investors)
➡️ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা
➡️ FII বাড়লে বুঝতে হবে কোম্পানির প্রতি বিশ্বব্যাপী আস্থা বাড়ছে
3) DII (Mutual Funds, Insurance companies)
➡️ এদের হোল্ডিং থাকলে কোম্পানি শক্তিশালী বলে ধরা হয়
4) Retail Investors (আমাদের মতো সাধারণ মানুষ)
➡️ খুব বেশি Retail Holding থাকলে অনেক সময় কোম্পানিতে স্মার্ট মানি কম থাকতে পারে
উদাহরণ (Company X):
●Promoter: 65%
●FII: 10%
●DII: 15%
●Retail: 10%
➡️ এই ধরনের Shareholding Pattern অত্যন্ত ভালো, কারণ Promoter ও Institutional investor–রা বেশি অংশ ধরে রেখেছে।
》Technical Analysis – চার্ট দেখে দিকনির্দেশ
ফান্ডামেন্টালের মাধ্যমে আমরা কোম্পানির স্বাস্থ্য বুঝি, আর টেকনিক্যাল এনালাইসিস বলে দেয় – কবে কিনলে ভালো হবে।
✔️ ১. Trend Analysis
চার্ট দেখে বোঝা যায় স্টক Uptrend (উপরে উঠছে), Downtrend (নামছে), নাকি Sideways।
➡️ Uptrend = ভালো সময়
➡️ Downtrend = অপেক্ষা করা ভালো
✔️ ২. Support & Resistance
• Support: নিচে যেখানে দাম পড়ে গিয়ে আবার উঠে
• Resistance: উপরে যেখানে দাম গিয়ে আটকে যায়
➡️ Support এর কাছে কিনলে কম ঝুঁকি,
➡️ Resistance ভেঙে উপরে গেলে স্টক আরও উঠতে পারে।
✔️ ৩. Moving Average
সাধারণত ৫০–দিন বা ২০০–দিন MA দেখে বুঝা যায় স্টকের গতিমুখ কেমন।
➡️ MA এর উপরে দাম থাকলে এটা ভালো সংকেত।
⭐ গুড স্টক চেনার সেরা টিপস
✔️ কোম্পানির EPS ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে কি?
যদি ৩–৫ বছর ধরে EPS বাড়ে, কোম্পানির গ্রোথ ভালো।
✔️ PE Ratio সেক্টরের অন্য কোম্পানির সাথে তুলনা করুন।
বেশি PE = দাম বেশি
কম PE = দাম সস্তা (কিন্তু কোম্পানির হিসাবও দেখুন)
✔️ কোম্পানির ঋণ কম কি না দেখুন (Debt-to-Equity Ratio)।
✔️ প্রফিট মার্জিন বাড়ছে কি না দেখুন।
✔️ টেকনিক্যাল চার্টে স্টক Uptrend আছে কি না।
✔️ ফান্ডামেন্টাল + টেকনিক্যাল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।
নিশ্চয়ই 😊
নীচে “ভালো স্টক চেনার উপায় – Fundamental vs Technical Analysis” টপিকের উপর SEO + Google Discover Friendly FAQ Section দিলাম, যেগুলো আপনি সরাসরি ব্লগের নিচে ব্যবহার করতে পারবেন।
FAQ: ভালো স্টক চেনার উপায় – Fundamental vs Technical Analysis
❓ Fundamental Analysis কী?
Fundamental Analysis হলো কোম্পানির ভেতরের শক্তি বিচার করা—যেমন
Revenue, Profit, Debt, Management, ভবিষ্যৎ Growth সম্ভাবনা ইত্যাদি বিশ্লেষণ করা।
❓ Technical Analysis কী?
Technical Analysis হলো স্টকের দামের চলাচল (Price Movement) ও Volume দেখে ভবিষ্যৎ দামের দিক অনুমান করা।
এতে Chart, Indicator, Pattern ব্যবহার করা হয়।
❓ নতুন বিনিয়োগকারীর জন্য কোনটা ভালো – Fundamental না Technical?
নতুনদের জন্য Fundamental Analysis বেশি নিরাপদ, কারণ
এটি লং-টার্ম ইনভেস্টমেন্টে সাহায্য করে এবং ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
❓ Long-term Investment-এর জন্য কোন Analysis সবচেয়ে উপযোগী?
👉 Fundamental Analysis
কারণ এটি কোম্পানির ভবিষ্যৎ Growth ও Financial Stability দেখায়।
❓ Short-term Trading বা Intraday-এর জন্য কোনটা ভালো?
👉 Technical Analysis
কারণ এতে Entry–Exit, Support–Resistance সহজে বোঝা যায়।
❓ Fundamental Analysis-এ কোন কোন বিষয় দেখা উচিত?
- Company Profit Growth
- Debt-to-Equity Ratio
- ROE / ROCE
- Cash Flow
- Industry & Future Scope
❓ Technical Analysis-এ কোন Indicator সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়?
- Moving Average (50 DMA, 200 DMA)
- RSI
- MACD
- Support & Resistance
- Candlestick Pattern
❓ Fundamental আর Technical Analysis কি একসাথে ব্যবহার করা যায়?
✅ অবশ্যই যায়, বরং সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
👉 Fundamental দিয়ে ভালো কোম্পানি বাছুন
👉 Technical দিয়ে সঠিক Entry ও Exit নিন
❓ শুধু Technical দেখে স্টক কেনা কি ঝুঁকিপূর্ণ?
হ্যাঁ ⚠️
ভালো Fundamental ছাড়া শুধুই Technical দেখে ইনভেস্ট করলে
হঠাৎ বড় ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।
❓ Beginner হলে স্টক চেনা শুরু করবেন কীভাবে?
1️⃣ আগে Fundamental শিখুন
2️⃣ বড় ও পরিচিত কোম্পানি দেখুন
3️⃣ পরে ধীরে ধীরে Technical শিখে Entry–Exit ঠিক করুন
❓ ভালো স্টক চেনার সবচেয়ে সহজ ফর্মুলা কী?
📌 ভালো Company (Fundamental) + সঠিক সময় (Technical) = স্মার্ট ইনভেস্টমেন্ট
ভালো স্টক চেনা কঠিন নয়—শুধু EPS, PE Ratio, কোম্পানির গ্রোথ, আর চার্টের সিম্পল সিগন্যালগুলো দেখলে আপনি নিজেই বুঝে যাবেন কোন স্টক দীর্ঘমেয়াদে লাভ দিতে পারে।
ভালো স্টকে ইনভেস্ট মানে ঝুঁকি কম, রিটার্ন বেশি।
⚠️ সতর্কতা
এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র educational purpose-এর জন্য।
Financial decision নেওয়ার আগে নিজে যাচাই করুন অথবা প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।